রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মুগাইপাড়া গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে সুজন ইসলাম পুলিশের খাতায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।
তার বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা, একটি প্রসিকিউশন এবং একটি গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে দীর্ঘ প্রায় এক মাস ধরে ওয়ারেন্ট থাকলেও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ—এমন অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে গত ১৭ জুন সন্ধ্যায় হাট গাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে সুজন ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন ভুক্তভোগী মো. জিল্লুর রহমান।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, তার স্ত্রী পিংকি খাতুন গত ১৪ জুন সন্ধ্যায় দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নগদ ১ লাখ টাকা ও প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ নিখোঁজ হন। পরে ১৭ জুন রাতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তিনি জানান, বাগমারার মুগাইপাড়া এলাকার সুজন ইসলাম তাকে এবং দুই সন্তানকে জোরপূর্বক একটি বাড়িতে আটকে রেখেছেন এবং বের হওয়ার চেষ্টা করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, সুজন ইসলাম তাকে মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী জিল্লুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সুজন ইসলাম একটি বাড়িতে অবস্থান করছেন। এরপর তিনি হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে গিয়ে ইনচার্জ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম ও তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই মান্নানের কাছে স্ত্রী ও সন্তান উদ্ধারের অনুরোধ জানান। তিনি আরও বলেন সুজনের নামে মাদক মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে।
জিল্লুর বলেন, পুলিশ তাকে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রেখে জানায়, সুজনের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং পরদিন তার স্ত্রী-সন্তানকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
ভুক্তভোগীর দাবি, ওয়ারেন্ট থাকা সত্ত্বেও আসামিকে গ্রেফতার না করায় তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং সুজন ইসলামের সঙ্গে পুলিশের “ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক” রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে বাগমারা থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সুজন ইসলামের বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে এবং পুলিশ তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই মান্নান বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। “ওয়ারেন্ট থাকলে আমি অবশ্যই তাকে ছেড়ে দিতাম না,”—বলেন তিনি।
ইনচার্জ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম বলেন, তিনি ওয়ারেন্টের বিষয়টি জানতেন না। “এখন একটি অভিযানে আছি, পরে কথা বলব,” বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জিল্লুর রহমানের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে রাজশাহী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হেলেনা আক্তার বিষয়টি জানতে চাইলে হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম বলেন, তার নামে কোনো ওয়ারেন্ট নেই বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাবিনা ইয়াসমিন জানান, “পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।”
এ জাতীয় আরো খবর..