ইউটিউব দেখে বিকল্প পদ্ধতিতে অকটেন উদ্ভাবন করতে গিয়ে পাইপ বিস্ফোরণে দগ্ধ ব্যবসায়ী নুর আলম মাসুদ (৪৫) মারা গেছেন। টানা চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহত নুর আলম মাসুদ সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের ওমর খান পাঠান বাড়ির মৃত খুরশিদ আলমের ছেলে। তিনি স্থানীয় 'সততা অয়েল মিলস'-এর স্বত্বাধিকারী ছিলেন।
নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে সোনাগাজী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নজরুল প্রাইমারি এলাকায় নিজের কারখানায় বিকল্প পদ্ধতিতে অকটেন তৈরির কাজ করছিলেন মাসুদ। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন সহকর্মী মো. ওমর ফারুক। ইউটিউবের একটি পদ্ধতি অনুসরণ করে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জ্বালানি তৈরির সময় হঠাৎ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এতে করে একটি পাইপ বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় এবং মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
বিস্ফোরণে নুর আলম মাসুদ ও ওমর ফারুক দুজনেই গুরুতর দগ্ধ হন। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে মাসুদের মৃত্যু হয়।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক জিয়া উদ্দিন হৃদয় বলেন, "নতুন কিছু উদ্ভাবনের প্রতি তাঁর প্রবল ঝোঁক ছিল। প্রায়ই দেখতাম তিনি ইউটিউব দেখে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। কিন্তু এই উদ্ভাবনী ইচ্ছাই যে তাঁর প্রাণ কেড়ে নেবে, তা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে।"
নিহতের ভাই মোর্শেদ জানান, তাপমাত্রা অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার বা পাইপলাইনটি চাপ নিতে না পেরে বিস্ফোরিত হয়েছে।
সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুর রহমান জানান, বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্যবসায়ীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
নুর আলম মাসুদের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।