
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও বাংলাদেশ আইন কমিশনের সাবেক সদস্য ড. এম. এনামুল হক আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
রোববার (৩০ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
পারিবারিক ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ড. এনামুল হক কিডনি জটিলতাসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও দুই ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার কেল্লাবারুইপাড়া এলাকার মরহুম ফাহিম উদ্দিন মাস্টার ও আনোয়ারা খাতুন দম্পতির জ্যেষ্ঠ সন্তান ছিলেন ড. এম. এনামুল হক। তাঁর মৃত্যুতে গোদাগাড়ীসহ রাজশাহীর বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কাল গোদাগাড়ীতে জানাজা ও দাফন
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১১টায় গোদাগাড়ীর আ.ফ.জি. পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ড. এম. এনামুল হকের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে ডাইংপাড়া ফাজিলপুর গোরস্থানের পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হবে।
এর আগে রোববার বাদ জোহর রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে তাঁর একটি জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান, সহকর্মী ও স্বজনরা অংশ নেন। জানাজা শেষে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁর কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং তাঁকে অফিসিয়াল ফিউনারেল দেওয়া হয়।
বর্ণাঢ্য কর্মজীবন
১৯৬৪ সালে পুলিশ ক্যাডারে যোগদানের মধ্য দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন ড. এম. এনামুল হক। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদার অধ্যক্ষ এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনারসহ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৯৯১ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ১৯৯২ সালের ৮ জুলাই পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অবসর-পরবর্তী সময়ে ২০০৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ আইন কমিশনের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এছাড়া ১৯৮৮ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ইন্টারপোলের একমাত্র নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের তথ্যও পাওয়া যায়।
শিক্ষাজীবনেও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন ড. এম. এনামুল হক। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নিউ অরলিন্স থেকে লোক প্রশাসনে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি লেখালেখিতেও তাঁর পরিচিতি ছিল। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্রিকা ও জার্নালে তিনি নিয়মিত লিখতেন এবং তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য।
রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিমণ্ডলেও পরিচিত মুখ
ড. এম. এনামুল হকের পরিবার রাজশাহীর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনেও সুপরিচিত। তাঁর বড় ভাই প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হক ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী এবং রাজশাহী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তাঁর আরেক ভাই মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন বর্তমানে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি—নেসকোর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া ড. এনামুল হক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের বড় চাচা এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক রুশদ হকের বাবা ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁর মৃত্যুতে সাবেক সহকর্মী, স্বজন, রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। আগামীকাল গোদাগাড়ীতে জানাজা ও দাফনে আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সর্বস্তরের মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তাঁর পরিবার।