
রাজশাহী ব্যুরো: বৃষ্টি নামলেও, কিন্তু থামেনি গোলের বৃষ্টি। মাঠে ছিল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের ঝড়, গ্যালারিতে উত্তেজনা। একের পর এক ম্যাচে জমে উঠেছে রাজশাহী জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট।
গত আসরের চ্যাম্পিয়ন মোহনপুরের দাপুটে জয়, দুর্গাপুরের রোমাঞ্চকর লড়াই আর পুঠিয়ার এক গোলের জয়—সব মিলিয়ে শেষ হয়েছে প্রথম পর্বের জমজমাট লড়াই।
এখন অপেক্ষা সেমিফাইনালের। আগামীকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন মোহনপুর উপজেলা ও পবা উপজেলা। ২ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে লড়বে পুঠিয়া ও চারঘাট। ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে চার দলের লড়াইয়ে উত্তাপ আরও বাড়বে—এমনটাই প্রত্যাশা ফুটবলপ্রেমীদের।
গত সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে তৃতীয় ম্যাচে মাঠে নেমেছিল মোহনপুর ও গোদাগাড়ী। ম্যাচের শুরুতেই গোল করে চমক দেয় গোদাগাড়ী। তবে পিছিয়ে পড়েও ভেঙে পড়েনি গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। দ্রুতই গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরে মোহনপুর।
এরপর নামে বৃষ্টি। কিন্তু বৃষ্টিতে যেন আরও ধারালো হয়ে ওঠে মোহনপুরের আক্রমণ। প্রতিকূল আবহাওয়ায়ও বলের দখল ও আক্রমণের গতি ধরে রেখে প্রথমার্ধেই আরও এক গোল করে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল করে আবারও ম্যাচে সমতা ফেরায় গোদাগাড়ী। গ্যালারিতে তখন উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। কিন্তু সমতা বেশিক্ষণ টেকেনি। এরপর শুরু হয় মোহনপুরের গোল উৎসব। গোদাগাড়ীর রক্ষণভাগকে একের পর এক আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত করে দ্বিতীয়ার্ধে আরও তিন গোল করে তারা।
গোদাগাড়ীও সুযোগ পেয়েছিল। কয়েকবার মোহনপুরের রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করেছিল তারা। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানেই হারতে হয় তাদের। ৫-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মোহনপুর।
শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে গ্যালারি ফেটে পড়ে উল্লাসে। মোহনপুরের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আনন্দে যোগ দেন সমর্থকরাও। দলের বিদেশি ফুটবলাররা গ্যালারিতে গিয়ে দর্শকদের সঙ্গে ছবি ও সেলফি তুললে মুহূর্তেই তৈরি হয় উৎসবের আবহ।
মোহনপুরের হয়ে মাঠে নামা দুই বিদেশি খেলোয়াড়ও নজর কাড়েন। তাদের গতি, বল নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণভাগে কার্যকর ভূমিকা দর্শকদের আলাদা করে আকৃষ্ট করে। গতবারের চ্যাম্পিয়নদের এবারের দলটিও যে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছে, তাদের পারফরম্যান্সে তার ইঙ্গিত স্পষ্ট।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) পঞ্চম ম্যাচে তানোরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ জয় পায় দুর্গাপুর। শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে চলে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। প্রথমার্ধেই দুই দল দুটি করে গোল করে। তানোরের সাব্বির ও সাগর মহন্ত এবং দুর্গাপুরের জুবায়ের ও পলাশের গোলে বিরতিতে ২-২ সমতা।
বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে দুর্গাপুর। একের পর এক আক্রমণে তানোরের রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে তারা। শেষ পর্যন্ত ৬ নম্বর জার্সিধারী প্রদীপের গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় দুর্গাপুর। শেষ বাঁশি পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করে তারা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ষষ্ঠ ম্যাচে পুঠিয়া-চারঘাট লড়াইও কম জমেনি। তবে এই ম্যাচের গল্প এক গোলের। প্রথমার্ধে পুঠিয়ার ৬ নম্বর জার্সিধারী মিজানের গোলই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে চারঘাট। মুহুর্মুহু আক্রমণে পুঠিয়ার রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি তারা। শেষ পর্যন্ত মিজানের সেই এক গোলই হয়ে থাকে জয়ের গোল। ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে সেমিফাইনালে পা রাখে পুঠিয়া।
চারঘাটের হয়ে দুই বিদেশি খেলোয়াড় মাঠে নামায় ম্যাচে ছিল বাড়তি আকর্ষণ। তাদের খেলা দেখতে গ্যালারিতে দর্শকদের আগ্রহও ছিল চোখে পড়ার মতো। খেলা দেখতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ।
সামনে সেমিফাইনালের উত্তাপ
প্রথম পর্ব শেষ। এখন হিসাব সেমিফাইনালের। আগামীকাল ৩১ আগস্ট প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে মোহনপুর ও পবা। আর ২ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে লড়বে পুঠিয়া ও চারঘাট।
মোহনপুরের সামনে এবার শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে পবার লক্ষ্য গতবারের চ্যাম্পিয়নকে থামিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা। ফলে প্রথম সেমিফাইনালেই দেখা যেতে পারে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।
পুঠিয়া-চারঘাট ম্যাচেও উত্তেজনার কমতি থাকার কথা নয়। একদিকে এক গোলের জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী পুঠিয়া, অন্যদিকে হারের প্রতিশোধ নিয়ে ফাইনালে যাওয়ার প্রত্যয় চারঘাটের।
বিদেশি ফুটবলারদের উপস্থিতি, স্থানীয় তারকাদের নৈপুণ্য আর গ্যালারিভর্তি দর্শক—সব মিলিয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ এখন পৌঁছে গেছে জমজমাট লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে। কে যাবে ফাইনালে, আর কার থামবে শিরোপার স্বপ্ন—সেই উত্তর মিলবে সেমিফাইনালের দুই লড়াইয়ে।