প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 10, 2026 ইং
বিতর্কিত পরিচালকদের ফেরার পথ বন্ধ, বাতিল হচ্ছে ব্যাংক রেজ্যুলেশনের ১৮(ক) ধারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: একীভূত পাঁচ ব্যাংকের পুরোনো ও বিতর্কিত মালিক-পরিচালকদের ফের ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ আর থাকছে না। সংকটে থাকা ব্যাংক পুনর্গঠনের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনে যুক্ত করা ১৮(ক) ধারা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এ সংক্রান্ত ‘ব্যাংক রেজ্যুলেশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং শেষে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় সংশোধনীটি কার্যকর করা হবে।
বর্তমান বিধানের ১৮(ক) ধারায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অগ্রিম অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে সংকটে থাকা বা একীভূত ব্যাংকের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ পেত। এ ক্ষেত্রে অগ্রিম অর্থের পরিমাণ ছিল সংশ্লিষ্ট দাবির ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সুযোগ বহাল থাকলে অতীতে ব্যাংক থেকে বিতর্কিতভাবে ঋণ বিতরণ বা ব্যাংকের আর্থিক সংকট তৈরিতে ভূমিকা রাখা পুরোনো পরিচালকরা ফের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারতেন। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সেই সম্ভাবনাই কার্যত বন্ধ হচ্ছে।
খসড়া সংশোধনীতে বলা হয়েছে, ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইন, ২০২৬-এর ১৮(ক) ধারার আওতায় এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন করেনি। ফলে ধারাটি কার্যকর রাখার প্রয়োজনীয়তা নেই বলে মনে করছে সরকার।
তবে ১৮(ক) ধারা বিলুপ্ত হলেও ব্যাংক খাতের সংকট মোকাবিলায় ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনের অন্যান্য বিধান বহাল থাকবে। মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট, দেউলিয়াত্ব কিংবা ব্যাংকের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ ঝুঁকি দেখা দিলে রেজ্যুলেশন ব্যবস্থার আওতায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্যাংক খাতের বড় ধরনের আর্থিক সংকট মোকাবিলা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যেই ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেটিকে আইনে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংসদে উত্থাপনের পর বিশেষ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কয়েকটি বিধান সংশোধন করে ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইন, ২০২৬ পাস হয়।
আইন প্রণয়নের সময় সংকটে পড়া ব্যাংককে সচল রেখে পুনর্গঠন, মূলধন ও তারল্য সংকট কাটানো এবং সরকারের আর্থিক দায় কমানোর লক্ষ্য সামনে রেখে ১৮(ক) ধারা যুক্ত করা হয়েছিল। পাশাপাশি আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
কিন্তু পরবর্তীতে ধারাটির আওতায় কোনো আবেদন না আসায় এটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেজ্যুলেশন কাঠামো চালুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান বাতিলের উদ্যোগ সরকারের ব্যাংক খাত সংস্কারনীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এ সিদ্ধান্তের ফলে চট্টগ্রামভিত্তিক আলোচিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলমসহ সংকটে পড়া বা একীভূত ব্যাংকের পুরোনো বিতর্কিত পরিচালকরা অগ্রিম অর্থ পরিশোধের বিশেষ ব্যবস্থায় ফের ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ হারাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং শেষে সংশোধনী আইনটি চূড়ান্ত হলে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৮(ক) ধারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ তথ্য প্রকাশ